২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

মানব জীবন নানা বৈচিত্র্যে ভরা। আর তারই মাঝে আমরা প্রতিনিয়ত সুখ ও সমৃদ্ধির খোঁজে এগিয়ে চলেছি।

তবে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যতই সফল হই না কেন! জীবনে কিছু অসাধারণ বা অভিনবত্ব না করলে জীবনটা বৃথাই মনে হয়।

আর আমাদের জীবন ধারণের রকম ভেদের উপর বহুলাংশে আমাদের হাসি খুশি, দুঃখ কষ্ট নির্ভর করে আছে।

দৈনন্দিন জীবনে একঘেয়েমি কাটিয়ে কিছু নতুনত্ব আপনার জীবনের মানেটাই বদলে দেবে।

আসুন এবার দেখে নেওয়া যাক ২৫টি এমন সেরা টোটকা যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে :

সূর্যোদয় দেখুন। কথায় আছে early to rise and early to bed.

অর্থাৎ আমাদের সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা উচিত, যদিও তার জন্য আগের রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাওয়াটা শ্রেয়।

আপনি যদি সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ঘুম ভেঙ্গে উঠে পড়েন তাহলে সারা দিনের অনেকটা সময় হাতে পেয়ে যাবেন। এবং অন্যদের থেকে অনেকটা এগিয়েই আপনার দিন শুরু করবেন, এতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। 

২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

মাঝে মাঝে নতুন রাস্তা ব্যবহার করুন।

নিত্য দৈনন্দিন জীবনে একঘেয়েমি কাটাতে কখনো কখনো আপনার একই জিনিস নতুন ভাবে করা উচিত।

যেমন ধরুন একই গন্তব্যে নতুন পথ ধরে পৌঁছানো, গতানুগতিক পদ্ধতি ছেড়ে অন্য উপায়ে কোন কাজ করার প্রয়াস।

এতে যেমন জীবনে এক নতুনত্ব আসে, তার সাথে নতুন কিছু উদ্ভাবনার শক্তি পাওয়া যায় যা আমাদের জীবনকে বিকশিত করতে সাহায্য করে।

একটি ছোট্ট ভ্রমনের পরিকল্পনা করুন।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাঁরা দূর দুরান্তে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন। অচেনা অজানা পৃথিবীটাকে কাছ থেকে দেখাটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।

তবে আপনি যদি অর্থ বা সময়ের জন্য সেই পথ থেকে সরে আসেন, তাহলে অন্তত মাঝে মাঝে কাছেপিঠে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন।

এতে দৈনন্দিন জীবনের অবসাদ অনেকটা কমিয়ে নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে জীবনে বাঁচার মানেটা বাড়িয়ে তোলে।

শখ পরিবর্তন।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই নতুন কিছু করা উচিত। তাই মাঝে মাঝে একঘেয়েমি কাটাতে জীবনের শখগুলো পরিবর্তন করে মাঝে মাঝে নতুনভাবে কিছু শখ পালনের প্রয়োজন।

২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

নিজের চারপাশ সুন্দরভাবে সাজান।

আমাদের পারিপার্শ্বিক জগৎ আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। তাই আমরা যত নিজেদের চারপাশ ভালোভাবে সাজিয়ে রাখবো তা ততই আমাদের সুন্দর ও সুষ্ঠ জীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

নিজের কাজের তালিকা বানান

আপনার অবশ্যই জীবনে একটি দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা উচিত।

মনস্তাত্ত্বিকবিদদের মতে যে ব্যক্তি তাঁর লক্ষ্যে অবিচল তিনি দৃঢ় মানসিকতার ও জীবনমুখী হন।

সেই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে আপনাকে অনেক ছোট ছোট কার্যসিদ্ধি করতে হয়।

তাই নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকার জন্য এইসব কাজের একটি তালিকা বানিয়ে তা চোখের সামনে কোথাও রাখুন।

নিজের শখটির পিছনে বেশি করে সময় কাটান।

এই প্রতিযোগীতামূলক দুনিয়ায় আমরা সকলেই নিজেদের সাফল্যের জন্য বহু মানসিক ও কায়িক পরিশ্রম করে চলেছি।

আর তার সাথে সাথে জীবনের শখ আহ্লাদগুলিকে অনেক সময় জলাঞ্জলি দিয়ে দি।

কিন্তু গবেষণায় জানা গেছে যিনি তাঁর শখের পিছনে অনেকটা সময় ব্যয় করেন তিনি তাঁর প্রকৃত লক্ষ্য পূরণে বেশি মাত্রায় সফল হয়েছেন।

অর্থাৎ আমাদের উচিত দৈনন্দিন কাজের সাথে সাথে শখটির জন্যও সময় দেওয়া।

আপনি যে জিনিসটি ভয় পান সেটি করুন।

আমরা অনেক সময় যে জিনিসটি করতে ভয় পাই তাকে দূরে সরিয়ে দি এবং মনে মনে কামনা করি তা যেনো আমাদের ভাগ্যে না ফিরে আসে।

কিন্তু মনবিজ্ঞানীদের মতে আপনি সেই ভয় পাওয়া কাজটি সাহসের সাথে ঝাঁপিয়ে যদি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে করেন তাহলে তার থেকে ভীতি চিরতরে দূর হবে ও তাতে সফলতা লাভ করার সুযোগ বহুলাংশে বেড়ে যায়।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান।

আমাদের শরীর ও মন দুই সচল রাখতে সঠিক পরিমান ঘুমের প্রয়োজন। ডাক্তারদের মতে একজন মানুষের দিনে 7-8 ঘন্টা ঘুমানো উচিত।

এতে আমাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও অবসাদ ক্লান্তি দূর হয়। তবে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত ঘুম আপনাকে অলস, স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন করে তুলতে পারে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান।

শরীরে পুষ্টি জোগানে যেমন সঠিক খাদ্যের ভূমিকা অপরিসীম তেমনই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার আপনার পরিপাকতন্ত্র, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে সঠিক মাত্রা যোগান দেয়।

এতে আপনি শারীরিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই সুস্থ থাকবেন।

নিয়মিত শরীর চর্চা করুন।

এতে আপনি একদিকে যেমন বাহ্যিক দিক থেকে সুকাঠামো স্বাস্থ্যের অধিকারী হবেন তেমনই অপর দিক থেকে আপনার শরীরের অভ্যন্তরীন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ও দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়বে।

ডায়রি লিখুন।

আমরা অনেক সময় আমাদের মনের কথা খুলে কাউকে বলতে পারি না।

কিন্তু এই না বলা কথা মনের ভিতর জমে জমে আমাদের হৃদয়কে আরও ভারাক্রান্ত করে তোলে।

তাই আপনার মনের না বলা কথা অথবা দৈনন্দিন জীবনের কিছু হাসি-মজা,সুখ-দুঃখের কাহিনী একটি ডায়রিতে লিখে রাখুন।  

বিনোদনে হারিয়ে যাবেন না।

আমাদের জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বিনোদন খুবই প্রয়োজন।

তবে এই বিনোদন একটি মাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, নতুবা আপনি অলস মস্তিষ্কের হয়ে যাবেন ও নিজের মূল্যবান সময়গুলি হেলায় হারাবেন।

নতুন কিছু শিখুন।

জীবনে চলার পথে নতুন শিক্ষা লাভ করুন।

আপনার শিক্ষা ও কর্ম জগতের জন্য যেমন নতুন কিছু শেখাটা গুরুত্বপূর্ণ তেমনই জীবন সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কিছু শিখে আরও বেশি জ্ঞানশালী ও প্রতিভাবান হন।

নিজের স্মৃতির চিলেকোঠায় উঁকি দিন।

আমরা সবাই আমাদের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে ছুটে চলেছি।

কিন্তু আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের উপর না চাইতেই অতীতের এক প্রভাব থেকে যায়, কখনো তা সুখের আবার কখনো বা দুঃখের।

তবে আপনার ছেলেবেলার বা কম বয়সী জীবনের অতীতকে কখনো কখনো মনে করলে নিঃসন্দেহে আপনি আবেগাপ্লুত হবেন, আর তা আপনার জীবনে এগিয়ে চলার রসদ প্ৰদান করবে।

শিশুদের সাথে সময় কাটান।

বাচ্চারা খুবই সরল হয় ও সহজেই আমাদের আকৃষ্ট করে।

আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন শিশুদের প্রতি আমাদের এক অদ্ভুত দুর্বলতা আছে।

তাদের সহজ সরল নিষ্পাপ মুখ ও কর্মকান্ড আমাদের অনেক কষ্টের বোঝা লাঘব করিয়ে হৃদয়ের অন্দর থেকে পরিতৃপ্তি প্ৰদান করে।

পোষ্যদের সাথে সময় কাটান।

আমরা সবাই জানি যে মানুষই হলো শ্রেষ্ঠ জীব, ঠিক তেমনই একটি মানুষের মস্তিষ্ক সব থেকে বেশি জটিল।

আর অপর একজন মানুষের ক্ষতি চাইতেও পিছপা হয় না। কিন্তু পোষ্যরা সত্যি সত্যি মানুষের ভৃত্য , তারা তাদের মালিকের পরম বন্ধু।

তাই এই পোষদের সাথে সময় কাটলে আপনি কখনো ঠকবেন না।

নিজে সাবলম্বী হন, নিজের কাজ নিজেই করে নিন।

আমরা অনেকেই নিজেদের দৈনন্দিন কাজের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল হই।

কিন্তু এই সমস্ত ছোট খাটো কাজগুলি যেমন নিজের খাবার নিজে রান্না করা, নিজের কাপড় কাচা, ঘর মোছা ইত্যাদি আমাদের সাবলম্বী করে তোলে ও অন্যের জীবনের উপর নিজের জীবনের নির্ভরতা কমিয়ে দেয়।

কয়েন টস করুন।

আমরা অনেক সময় দ্বিধায় পরে যাই কোনটি ঠিক কোনটি ভুল।

নিজেদের বিচার বুদ্ধি দিয়ে যখন দুটি জিনিসের মধ্যে কিছুতেই ফারাক করতে পারি না তখন আপনি এই সংকট থেকে বাঁচতে একটি কয়েন টস করার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোনটিকে পছন্দ করবেন।

তবে হ্যাঁ, নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়ে আগে যাচাই করে যখন আপনি ব্যর্থ হয়েছেন তখনই এই পথ অবলম্বন করবেন।

সামাজিক কার্যকলাপে যোগদান।

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। তাই এই সমাজের প্রতি আমাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে।

আমাদের সকলের উচিত জগতের শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, কোনো বিপর্যয় এলে একসাথে মোকাবিলা করা। এতে আমাদের বাঁচার মানেটা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

লোকালয়ের কোন অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিনিধিত্ব করা, কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা আপনার সামাজিক মান অনেক অংশে বাড়িয়ে দেবে।

মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন।

বন্ধুদের কাছে আপনি আপনার মনের কথা খুলে বলতে পারবেন, কোনো সমস্যায় পড়লে এই বন্ধুরাই আপনাকে পরামর্শ দেবে ও সশরীরে পাশে এসে দাঁড়াবে।

আর মাঝে মাঝে উদ্দেশ্যহীন আড্ডা দেওয়া শরীর ও মনের পক্ষে খুবই জরুরি। 

অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করুন।

আপনার উচিত কখনোই অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা না করা।

নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে সৎ পথে এগিয়ে যাওয়াটাই কাম্য।

আপনার নিজের জীবনের উন্নতির কথা ভেবে চলুন, অন্যের প্রতি ভাবনা আপনাকে ঈর্ষান্বিত করে তুলতে পারে বা অহমিকা বোধের সঞ্চার ঘটিয়ে পতনের সম্ভবনা অনিবার্য করে তুলবে।

সর্বদা বিনীত ও দয়াবান হন।

কথায় আছে আয়নায় যেমন মুখ দেখাবো তেমনি দেখতে পাবো।

আপনি অন্যের সাথে যেমনটি ব্যবহার করবেন অন্যের থেকে ঠিক তেমনই ফেরত পাবেন।

নিজের উপর আস্থা রাখুন।

সর্বদা মনে রাখবেন, এটা আপনারই জীবন তাই আপনি এর চালক।

আপনি যেমন ভাবে জীবন চালনা করবেন তেমনি সে চলবে। আপনার জীবনের কোন সমস্যা আপনি পারবেন সমাধান করতে।

তাই হতাশায় মগ্ন না হয়ে সর্বদা সৎ চিন্তাভাবনায় এগিয়ে চলুন।

২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ যা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।

কখনো কখনো নিজের সাথে নিজের জন্য সময় কাটান।

আমরা অনেক সময় পারিপার্শ্বিক জীবনের সাথে এতটা যুক্ত হয়ে যাই, অন্যদের সঙ্গে এতটাই আবদ্ধ হয়ে পড়ি, অপরের চাওয়া পাওয়াকে মর্যাদা দিতে থাকি যে মাঝে মাঝে ভুলেই যাই এই জীবনটা আসলে আমাদের।

তাই নিজেকে খুশি রাখতে নিজের স্বত্তা বাঁচিয়ে রাখতে সর্বদা নিজের সাথে সময় কাটান। নিজের দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে নিজেই নিজের মনকে প্রশ্ন করুন আর হ্যাঁ তার উত্তর নিজেই নিজেকে দিন।

কলমে – সুস্মিতা দত্ত